
রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী নার্সিং কলেজের পুরুষ হোস্টেলে এক যুবককে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজপাড়া থানা পুলিশ। নিহত যুবকের নাম রাকিবুল হাসান রকি (৩১)। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুন সন্ধ্যায় রাকিবুল হাসান রকি রাজশাহী নার্সিং কলেজের পুরুষ হোস্টেলে প্রবেশ করেন। এ সময় তাকে চুরির সন্দেহে আটক করেন হোস্টেলে অবস্থানরত কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে তাকে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ক্রিকেট খেলার স্টাম্পসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে রকিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি রাজপাড়া থানাকে অবহিত করে।
ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় তার বোন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তালা গ্রামের মো. সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে মো. সোয়েব আক্তার শিমু (২৫), নড়াইল সদর উপজেলার ভাওখালী গ্রামের মো. ফারুক মোল্লার ছেলে মো. ফাহিম রেজা ববি (২৪) এবং রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মো. আফসার আলীর ছেলে মো. আতিকুর রহমান (২৫)। তারা সবাই রাজশাহী নার্সিং কলেজের পুরুষ হোস্টেলের শিক্ষার্থী।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান রকি চুরির উদ্দেশ্যে হোস্টেলে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই অভিযোগের সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, “মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তকরণ এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলেও তার বিচার আইন অনুযায়ী হতে হবে। আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।”


