
রাজশাহীতে রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের ২০২৬ সালের নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহীতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজশাহী রেলভবনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর পর সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহী কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৫২২ জন। দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি ভোট কাস্ট হয়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ৫০ শতাংশ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোটাররা জানান, ২০১২ সালের পর এই প্রথম তারা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অনেক ভোটারের ভাষ্য, এতদিন কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম রেলওয়ে শ্রমিক লীগের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হলেও এবার নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেল থেকে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সমর্থিত প্যানেল থেকে শরীফ উদ্দিন প্রামাণিক (মই), এস এম সাইফুল ইসলাম (আম) এবং সৈকত আহম্মেদ (মাছ) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত প্যানেল থেকে আমানুল্লাহ ছাতা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, একজন ভোটার সর্বোচ্চ তিনজন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। চারজন প্রার্থীর মধ্য থেকে সর্বাধিক ভোট পাওয়া তিনজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আগামী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নির্বাচিত তিনজনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তি কেন্দ্রের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রেলওয়ে কর্মচারীদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।
বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।


