
রাজনীতির ময়দান যখন বিতর্ক, দুর্নীতি, পরিবারতন্ত্র এবং সুবিধাবাদিতার জালে জর্জরিত, তখন একটি রাজনৈতিক শক্তি দৃঢ় সংগঠন, আদর্শ এবং নিষ্ঠার উপর ভর করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। এই দলকে শুধু একটি রাজনৈতিক শক্তি বললে কম বলা হবে; এটি একটি আন্দোলন, একটি জীবনদর্শন, এবং একটি নৈতিকতা-ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের প্ল্যাটফর্ম।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজির খুবই বিরল, যেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ধারাবাহিকভাবে শহীদ করা হয়েছে—একজনের পর একজন, ঠিক নেতৃত্বের লাইন অনুসরণ করেই। মোট ৭ জন শীর্ষ নেতা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই হত্যা, নিপীড়ন ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের পরেও দলটির সংগঠন বা শক্তি বিন্দুমাত্র দুর্বল হয়নি। বরং দিন দিন আরও সুসংহত, আরও বলিষ্ঠ, এবং আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এর একমাত্র কারণ হলো—জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি উত্তরাধিকার নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে গঠিত। এখানে কারো পিতা মন্ত্রী ছিলেন বলে পুত্র নেতা হন না। নেতা হন যিনি আদর্শে দৃঢ়, নিষ্ঠায় অটল এবং মেধায় অগ্রগামী। এখানে ছাত্ররাজনীতি মানে খালিপ্রচার নয়—একজন ছাত্রকে সত্যিকারের নীতিনিষ্ঠ, চিন্তাশীল ও মানবিক নেতৃত্বে গড়ে তোলার সংগ্রাম।
১৯ জুলাই ২০২৫: একটি ঐতিহাসিক দিন
এ কথার জ্বলন্ত উদাহরণ হলো ১৯ জুলাই ২০২৫-এর ঢাকার ঐতিহাসিক সমাবেশ, যেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে কোটি মানুষ জামায়াতের ডাকে সমবেত হয়।
এই বিশাল সমাবেশ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং আদর্শিক। কোথাও কোনো মারামারি, হালুয়া-রুটির লোভ, খিচুড়ি বিতরণ বা বিশৃঙ্খলার চিহ্নও ছিল না।
এই সমাবেশ প্রমাণ করেছে—এই দল শুধু মানুষের হৃদয়ে নয়, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার মানদণ্ডেও শীর্ষস্থানে অবস্থান করে।
জামায়াত কেন নেতৃত্বের যোগ্য?
১. বলয়মুক্ত রাজনীতি: জামায়াতে ইসলামী একমাত্র বৃহৎ দল, যারা সবসময় দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় স্বার্থ এবং আভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে কোনো বিদেশি বিশেষ করে প্রতিবেশীর চাপকে গ্রহণ করেনি।
২. সততার নজির: অতীতে জামায়াতের যে ক’জন নেতা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা নিজের মন্ত্রণালয় এমন দক্ষতা ও সততার সাথে পরিচালনা করেছেন, যা এখনো মানুষ উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করে। দলীয় বা ব্যক্তিগত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ উঠেনি, যা বাংলাদেশের জন্য এক বিরল অর্জন।
৩. মেধানির্ভর নেতৃত্ব: জামায়াত রাজনৈতিক নেতৃত্ব গঠনে মেধা, নৈতিকতা এবং সংগঠনের অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়। তাই এ দলের নেতৃত্বে উঠে আসেন পরীক্ষিত, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিরা।
৪. ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর জামায়াত: রাজনৈতিক পরিবেশ যত অনুকূলই হোক না কেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এই সময় থেকে একটি চাঁদাবাজি, সহিংসতা কিংবা বেআইনি কার্যক্রমের অভিযোগও ওঠেনি। বরং এ সময়টিতে দলটি নিজের চরিত্র ও কৌশলকে আরও গ্রহণযোগ্য ও জনমুখী করে তুলেছে।
৫. সুশৃঙ্খল সংগঠন: কোটি মানুষের উপস্থিতিতেও ১৯ জুলাইয়ের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ দেখিয়েছে—দলটি কেবল জনপ্রিয় নয়, একটি সাংগঠনিকভাবে পরিপক্ব, দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ শক্তি।
পরিশেষে বলা যায়, যখন একটি জাতি নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে, তখন একমাত্র আশা হতে পারে সেই দল, যারা অতীতে প্রমান করেছে—তারা দুর্নীতিমুক্ত, আদর্শিক, সংগঠিত এবং যোগ্য নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেই শক্তি, যারা দেশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নিতে পারে জাতিকে।
এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বিকল্প নয়—এটি একটি ভবিষ্যৎ গড়ার দিশা। এবং সেই ভবিষ্যতের নাম—আদর্শ, সততা ও সংগঠনের শক্তিতে গঠিত একটি নতুন বাংলাদেশ।
# সোনালী আখতার


