
রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন নুরশাদ আলী। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বলে পরিবারের দাবি। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করা হলেও মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মামলার বাদী আহতের ভাই এরশাদ আলী। তার করা এজাহারে বলা হয়েছে, জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে গত শনিবার দুপুরে নারায়ণপুর গ্রামের মৃত ওসমান আলীর ছেলে মতিউর রহমান, মশিউর রহমান, তাদের বোন মরিয়ম, মশিউর রহমানের স্ত্রী নুরবানু, মতিউর রহমানের স্ত্রী শাহিনুর বেগম, মশিউর রহমানের মেয়ে মোহনা খাতুন, রাজশাহী নগরের খান সামারচক এলাকার আবুল হায়াত সুনু, তার ছেলে আরিফ মাহমুদ যুবরাজসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালান।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় মরিয়ম ও আবুল হায়াত সুনু বাদীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়। ছোট ভাই নুরশাদ আলী এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মশিউর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় কোপ দেন। পরে মতিউর রহমানও মাথায় আরেকটি কোপ দেন। এতে নুরশাদ আলীর মাথার খুলি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্য অভিযুক্তরাও চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। হামলায় বাদীও আহত হন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা বসতঘরের আলমারি থেকে এক ভরি স্বর্ণালংকার এবং এইচকে এগ্রো ব্যবসার পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যান।
স্থানীয়রা আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নুরশাদ আলী আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী কয়েকজন অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও তারা থানায় পৌঁছানোর আগেই ছাড়া পান। বাদীর দাবি, অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তারা বাড়িতে না থাকায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।”
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


