
মৌসুমী দাস, চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কৃষকরা আবাদ করেন, আখ, আম, রোপা আমন, বোরো, আউশ, গম, ভুট্টা, মসুর, মুগ, তিল, আলু, বেগুন, টমেটো, পেয়াজ, রসুন, আলুসহ মৌসুম ভিত্তিক বিভিন্ন সবজির চাষ। কিন্তু আশঙ্কা জনক হারে দিন দিন কমতে শুরু করেছে তিন ফসলি জমি। এ সব ফসলি জমিতে গড়ে উঠছে বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, রাস্তা-ঘাট আবার কাটা হচ্ছে পুকুর। ফলে ফসলি জমিতে কৃষি পণ্য উৎপাদনে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়।

বুধবার (০৫ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছরই বেশকিছু পরিমাণ আবাদি জমি ঘরবাড়ি নির্মাণ, ইটভাটা, রাস্তা-ঘাট, নদীভাঙনসহ নানা কারণে অনাবাদির তালিকায় চলে যাচ্ছে। তিন চতুর্থাংশ মানুষ সরাসরি কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। এসব মানুষের জীবন-জীবিকা চলে কৃষি উৎপাদন ও কৃষি বিপণন থেকে। ফসলি জমি কমে আসার এ হার খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে জানান তারা।
উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক সালামত আলী বলেন, আমরা কৃষিকাজ করছি শৈশব কাল থেকেই। বাপ-দাদা হাত ধরে কৃষি কাজে হাতেখড়ি। আগে যে পরিমাণ জমিতে আমাদের পরিবার চাষাবাদ করত, এখন তার এক পঞ্চমাংশ জমিতে ফসল ফলাই।
উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের বালাদিয়াড় ও ভাটপাড়া গ্রামের প্রবীণ কৃষকরা বলছেন, যেখানে জমিতে বছরে ৩ বার ফসল ফলানো হতো সেই ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে জনবসতি, পুকুর সহ বিভিন্ন ধরনের দোকান ফলে কমতে শুরু করেছে ফসলি জমি বলে তারা জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে আবাদি জমি কমে গিয়েছে। সেই সব জায়গায় তোলা হয়েছে বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে যার কারণে ফসলি জমি কমে গেছে। বিশেষ করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে যা বসত বাড়ি গড়ে তুলছে। এখন কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যে জমি গুলো পড়ে আছে সেখানে ৩ ফসলের আবাদ করার জন্য।


