
এশিয়া কাপের অঘোষিত সেমিফাইনালে ১৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১১ রানের ব্যবধানে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। পাকিস্তানের দেওয়া ১৩৬ রানের টার্গেটে বাংলাদেশ থেমেছে ২০ ওভারে ১২৪/৯ রানে। এই জয়ে পাকিস্তান ভারতের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হবে তারা।
পাকিস্তানের ইনিংস: শুরুতে ধাক্কা, শেষে প্রতিরোধ
বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলে। প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ফিরিয়ে দেন শাহেবজাদা ফারহানকে (৪)। এরপর দ্বিতীয় ওভারে মেহেদী হাসান শূন্য রানে সাইম আইয়ুবকে ফেরান। পাওয়ার প্লে’র শেষে পাকিস্তানের স্কোর ছিল মাত্র ২৭/২।

সপ্তম ওভারে রিশাদ হোসেন ফখর জামানকে (১৩) ফিরিয়ে পাকিস্তানকে আরও বিপদে ফেলেন। নবম ওভারে হুসেইন তালাত (৩) রিশাদের দ্বিতীয় শিকার হলে পাকিস্তান ৩৩/৪-এ নেমে আসে। মোস্তাফিজুর রহমান অধিনায়ক সালমান আগাকে (১৯) ফিরিয়ে পঞ্চম উইকেট তুলে নেন।
তবে শাহীন আফ্রিদি (১৩ বলে ১৯, ২ ছক্কা), মোহাম্মদ হারিস (২৩ বলে ৩১, ২ চার, ১ ছক্কা) এবং মোহাম্মদ নওয়াজের (১৫ বলে ২৫) ক্যামিও ইনিংসে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ১৩৫/৮ রান তুলতে সক্ষম হয়। হারিস ও নওয়াজের ৩৮ রানের জুটি পাকিস্তানের ইনিংসকে টেনে নেয়।
তাসকিন ৪ ওভারে ২৮ রানে ৩ উইকেট, রিশাদ ১৮ রানে ২ উইকেট এবং মেহেদী ২৮ রানে ২ উইকেট নেন। মোস্তাফিজ ৩৩ রানে ১ উইকেট পান।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
১৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই ধাক্কা খায়। প্রথম ওভারেই শাহীন আফ্রিদি ফিরিয়ে দেন পারভেজ হোসেনকে (০)। চতুর্থ ওভারে তাওহীদ হৃদয় (৫) আফ্রিদির দ্বিতীয় শিকার হন। পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে হারিস রউফ সাইফ হাসানকে (১৮, ১ চার, ২ ছক্কা) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ২৯/৩-এ ফেলেন।
মেহেদী হাসান (১১) এবং নুরুল হাসান সোহান (১৬, ১ ছক্কা) দ্রুত ফিরলে বাংলাদেশ ৬৩/৫-এ নেমে আসে। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাকের আলী (৫) অবিবেচকের মতো ক্যাচ তুলে ফিরলে দল আরও বিপাকে পড়ে।
শামীম হোসেন (৩০, ২ ছক্কা) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৬.৫ ওভারে শাহীন আফ্রিদির বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে বাংলাদেশের জয়ের আশা ক্ষীণ হয়ে যায়। শেষ দিকে তানজিম হাসান (১০) এবং তাসকিন আহমেদ (৪) দ্রুত ফিরলে বাংলাদেশ ১০১/৯-এ নেমে আসে। মোস্তাফিজ (৬*) এবং রিশাদ (১৬*) শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেও ১২৪ রানে থেমে যায় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের হয়ে শাহীন আফ্রিদি এবং হারিস রউফ দুটি করে উইকেট নেন।
টস ও একাদশ
টস জিতে বাংলাদেশ প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস ফিট না হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন জাকের আলী। একাদশে ফিরেছেন শেখ মেহেদী, তাসকিন আহমেদ এবং নুরুল হাসান। বাদ পড়েছেন সাইফউদ্দিন, নাসুম আহমেদ এবং তানজিদ হাসান।
বাংলাদেশ একাদশ: সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী (অধিনায়ক), শামীম হোসেন, নুরুল হাসান, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, তানজিম হাসান, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান।
পাকিস্তান একাদশ: শাহেবজাদা ফারহান, ফখর জামান, সাইম আইয়ুব, সালমান আগা (অধিনায়ক), হুসেইন তালাত, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন আফ্রিদি, হারিস রউফ, আবরার আহমেদ।
ফাইনালের পথে পাকিস্তান
এই জয়ে ভারতের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ শুরুতে দুর্দান্ত হলেও ব্যাটিং বিপর্যয় তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়। পাকিস্তান এখন ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে।


