
মৌসুমী দাস, চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ দরজায় তালা। ভেতরে নেই স্বাস্থ্যকর্মী। বাইরে অপেক্ষায় রোগী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে সরেজমিনে এমন চিত্রই দেখা গেছে। ফলে সরকারের বিনামূল্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ।
চারঘাট উপজেলায় মোট ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব কেন্দ্রে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, রোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী পাঠানো এবং ২৭ ধরনের জরুরি ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে মিলছে ভিন্ন চিত্র।

সম্প্রতি দুই শনিবারসহ সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ঝিকরা, খোর্দগোবিন্দপুর, বনকিশোর, মুংলি, বুধিরহাট ও বাসুদেবপুর কমিউনিটি ক্লিনিক সরেজমিনে ঘুরে নির্ধারিত সময়ে কোনোটিকেই খোলা পাওয়া যায়নি। কোথাও রোগীরা অপেক্ষা করছিলেন, আবার কোনো কোনো বন্ধ ক্লিনিকের সামনে গরু-ছাগল বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে ছয় দিন ক্লিনিক খোলা থাকার কথা। কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারীরও সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকার কথা।
উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের ঝিকরা কমিউনিটি ক্লিনিকে পরপর দুই শনিবার ও গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সেখানে চিকিৎসার আশায় অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা খোদেজা বেগম। তিনি বলেন, সময়মতো ক্লিনিক খোলে না। দুই-তিন দিন ঘুরে এরপর খোলা পাই। আজও আধা ঘণ্টা ধরে বসে আছি।
মুংলি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী মনিরা খাতুন বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। তিনি জানান, তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ছুটির দিন ছাড়া তাঁর প্রতিদিন ক্লিনিক খোলার কথা।
নারীদের অংশগ্রহণমূলক সংগঠন ওয়েভের চারঘাট উপজেলা সমন্বয়কারী আঞ্জুমান আরা বলেন, প্রান্তিক মানুষের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তদারকির অভাব ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক রেজা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়মিত খোলা থাকে না এমন অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ যেন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সঠিক সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।
জনগনের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে কমিউনিটি ক্লিনিক শুধু একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, বরং প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা। তাই নির্ধারিত সময়ে ক্লিনিক খোলা, স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


