
আবদুল্লাহীল শামস্, রাজশাহী (দূর্গাপুর) প্রতিনিধি :
রাজশাহীর এক দূর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি হাটে ক্ষুদ্র পান ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন প্রতিদিনের মতোই ব্যস্ত সময় পার করছেন পান সাজানো আর বিক্রির কাজে। পাশে রয়েছেন তার সহকারী শ্রমিক মাইনুল, যিনি নীরবে হাত লাগাচ্ছেন প্রতিটি কাজে। চারপাশে অন্য শ্রমিকদেরও একই চিত্র—কেউ পান গুছাচ্ছেন, কেউ বা ঝুড়ি ভর্তি করে বাজারজাত করছেন।

শুক্রবার (১লা মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। অথচ এই দিবস সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। বিষয়টি জানতে চাইলে মুচকি হেসে আলাউদ্দিন বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে রুজিরোজগার করাই কঠিন, সেখানে মে দিবস আমাদের কাছে বিলাসিতা ছাড়া কিছু না।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রমিকরা যদি ন্যায্য অধিকারই না পায়, তাহলে এই দিবস পালন করে কি লাভ?”
একই সুরে কথা বলেন শ্রমিক মাইনুলসহ অন্যান্যরা। তাদের মতে, প্রতিদিনের জীবিকা নির্বাহই যেখানে প্রধান চ্যালেঞ্জ, সেখানে অধিকার বা দিবস নিয়ে ভাবার সুযোগ খুবই সীমিত।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের একটি বড় অংশ এখনো শ্রমিক দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের জীবনে শ্রমের মূল্যায়ন ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না হলে এমন দিবসগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
মে দিবসের মূল চেতনা যেখানে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সেখানে বাস্তবতার কঠিন চাপে অনেক শ্রমিকই আজ সেই চেতনাকে ভুলে গিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়েই ব্যস্ত।


