
রাজশাহীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে ‘ইউনিট সভাপতি শিক্ষা শিবির-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) মহানগরীর শাহ্ ডাইন কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এ শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. গোলাম মুর্তজা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের জীবনের মূল লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। ইখলাস, তাকওয়া, আমানতদারি, শৃঙ্খলা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ইউনিট পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া এবং কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
প্রধান আলোচক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নিয়মিত জ্ঞানচর্চা, আত্মগঠন ও সাংগঠনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা বাড়াতে হবে। কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একজন দায়িত্বশীলের পরিচয় শুধু সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধ নয়; তার চরিত্র, আচার-আচরণ, নৈতিকতা ও মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমেও যোগ্যতার প্রকাশ ঘটে। মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি ইসলামের শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, ইউনিট সভাপতিরা সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল। তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর সাংগঠনিক কার্যক্রমের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে। শিক্ষা শিবির থেকে অর্জিত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ নিজ নিজ ইউনিটের কার্যক্রমে কাজে লাগাতে হবে।
শিক্ষা শিবিরে দারসুল কুরআন, ইসলামী সংগীত, দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ত্যাগ ও কুরবানী, বাইআতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য, ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সাধারণ প্রশ্নোত্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে রাজশাহী জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা অংশ নেন। পরে মোনাজাত ও সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শিক্ষা শিবিরের কার্যক্রম শেষ হয়।


